Spread the love

 

চরিত্র হলো সেই দীপ্তি, যা সূর্য অস্তমিত হলে এবং যখন অন্য সকল আলো নিভে আসে তখনও দীপ্যমান থাকে।

চরিত্র হলো সেই ব্যক্তি, যা যুদ্ধে পরাজয়ের মুখেও আমাদের বিজয় গৌরব এনে দেয়।

চরিত্র হলো মানুষের জাগ্রত চৈতন্য , যার সম্মুখে সকলের মাথা নত হয়- কেবল বিকৃত মস্তিষ্ক ছাড়া।

চরিত্র হলো সেই স্বর্গীয় প্রভা, যা চরম দারিদ্রের মাঝেও আলোক বিকৃর্ণ করে।

চরিত্র হলো এমন এক অনড় ভিত্তি, যার উপর রচিত হয় অবিনশ্বর জীবন।

জগতের সকল সম্পদ দস্যু দ্বারা লুণ্ঠিত হতে পারে- একমাত্র চরিত্র ছাড়া। যখন আর সব কিছুই হারিয়ে বসি, কিন্তু চরিত্র বজায় থাকে, তখন বস্তুত কিছুই হারায় না।

মানুষের সৃষ্টি মানুষের দ্বারা ধংস্ব হতে পারে, কিন্তু চরিত্র নয়।

চরিত্রবল সহায়ে আমরা নির্ভয়ে সর্বপ্রকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এর মোকাবেলা করতে পারি, জয়ী হতে পারি; কিন্তু তার অভাবে না থাকে বর্তমান, না ভবিষ্যৎ।

চরিত্র গঠনের পথনির্দেশ না থাকলে কোন শিক্ষাই সার্থক নয়।

শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য চরিত্র গঠন।

যে সব পিতা-মাতা সন্তানকে সব কিছুই দেন কিন্তু চরিত্র গড়ে দিতে ব্যর্থ হন , তারা বস্তুত তাদের খাদ্য হিসাবে ‘রুটি’র বদলে দিয়ে থাকেন ‘পাথর’।

চরিত্র গঠন যে কেউ করতে পারে, আবার সেই চরিত্র গড়ে তোলার পর সেই চরিত্র নষ্ট করার ক্ষমতাও প্রত্যেকের আছে।

বাঁচার জন্য প্রতিমুহূর্তে শ্বাসগ্রহণের যেমন দরকার , চরিত্র রক্ষার জন্য নিরন্তর যত্নবান থাকা অতি আবশ্যিক।

চরিত্র ভিত্তিক জীবন ছাড়া কোনো জাতিই শক্তিশালী হতে পারেনা। ব্যাক্তিগত ভাবেও চারিত্রিক দৃঢ়তা না থাকলে কোন মানুষই সুরক্ষিত নয়।

চরিত্রহীনতা এমন এক দারিদ্র্য যার থেকে আরও বেশি রিক্ততা সম্ভব নয়।

জাগতিক সমস্যার সমাধানে মানুষ আপাতভাবে প্রায় কোন প্রভাবই বিস্তার করতে পারে না; কিন্তু সে যদি নিজের চরিত্রটি সুগঠিত করতে যত্নবান হয় এবং অপরকেও সেরকম যত্নবান হতে সাহায্য করে, তবে সেটাই তার সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ, বাকি আর কিছু তার না করলেও চলে।

-স্বামী বুধানন্দ

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.