Spread the love

 

বিশ্বাস কর আর নাই কর, প্রকৃতি মানুষকে খাদ্য যোগাতে এতটুকুও কার্পন্য করে না। কিন্তু মানুষ সে সকল খাদ্যবস্তু কোন অন্ধকার গহরে লুকিয়ে রাখে তার স্বজাতিদের বঞ্চিত করে। কারণ? সে চায় অর্থ। আর অবশেষে একদিন সেই মানুষটি সকল ধন-সম্পত্তি ব্যাংকে রেখে চোখ বোজে। তুচ্ছ এক কৃমি-কীটের মতোই তার মৃত্যু হয়। তবু যদি মানুষ মানুষের মতো আচরল করে!

বিশ্বাস কর আর নাই কর, প্রকৃতি কখনো খাদ্যে ভেজাল মেশায় না। মানুষই অপরকে দেবার আগে, শিশুর মুখে তুলে দেবার আগে, আপন স্বজাতীয়দের হাতে পৌঁছে দেবার আগে ভেজাল মেশায়। কেন? তার বুদ্ধিতে এটাই নাকি চমৎকার ব্যবসা!

বিশ্বাস কর আর নাই কর, খাটিঁ দুধ তৈরি করতে গোজাতি যথেষ্ট উদার, যথেষ্টই নীতিপরায়ন। কিন্তু এই মানুষই সযত্নে প্রয়াস নেয় যাতে সেই দুধ যেন আবার কেউ বিশুদ্ধ অবস্থায় কখনো পান না করতে পারে!

বিশ্বাস কর আর নাই কর, রাসায়নিক খনিজ পদার্থসমূহ একযোগে মানুষকে ধ্বংস করতে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ভাবনের ষড়যন্ত্র করতে বসেনি, তা করেছে স্বয়ং মানুষ।

বিশ্বাস কর আর নাই কর, আকাশের নিজস্ব কোন বোমা-বারুদের মজুদ ভান্ডার নেই, বা তাকে কখনও একটি বোমাও মানুষের উদ্দেশ্যে ছুঁড়তে দেখা যায়নি। অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে মানুষই আকাশে উঠে সেখান থেকে তার সহজাত মানুষদের আর তার আপন সৃষ্টির উপর বোমা বর্ষন করে ভেবেছে সে নাকি মহা দিগ্বিজয়ী বীর।

বিশ্বাস কর আর নাই কর, সকল জীবের জন্য এই দরিত্রী যথেষ্ট পরিমাণ জমির আর ভরনপোষণের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, কিন্তু মানুষই মানুষকে ব্যস্তহারা আর সর্বহারা করে পাঠায় নির্বাসনে!

বিশ্বাস কর আর নাই কর, যে মানুষ পরমাত্মার সঙ্গে অভিন্ন, সেই মানুষই আজ নিজেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.